রণযাত্রী
- মোঃ ফয়সাল খান

টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
ডেকেডেকে হয়রান মোরে, দেখো ঐ রণরণাঙ্গন,
হাজির যে হবো দৃঢ়পদে ভূমে-
রক্তে রাঙাবো খুনেখুনে এ অঙ্গন।
যদিবা কোনোক্ষণে হায়েনারা হানে,
হানা দিয়ে যায় মোর মাতৃভূমে।
প্রাণপণে রণ হানিবো,
হেনে যাবো অরিদের তরে অসি মহাবিক্রমে।
পরাজয় বরণ, করিবো না আমরণ, করিলাম পণ চির অমিয় বাণী,
যদি রণভূমে, ভুলিয়াও যদি
শত্রুরা হেনে যায় রণ করে হানাহানি।
শোনো হে ভাই, মোর পরিচয়,
আমি ডেকে আনি বিপ্লব সদা সত্যের আহবান,
বিপ্লব ঘটিয়ে দেশকে দানিবো সমুন্নত বিনির্মাণ।
সদা সত্যের পথে চলি, মিথ্যাকে দুরে ঠেলি,
দেশ ও আমি গলাগলি হাটি, পিছুটান ছুরে ফেলি।
ধমনী আমার সত্যে সৃষ্টি, নহে সে মিথ্যারো পরিবাহক,
সর্বাঙ্গে বহে বিপ্লবী কণিকা,জুলুমের প্রতিষেধক।
বাঁকাপথ তব কাছে টানে আমাই, আমি দুরে সরেসরে যায়,
সত্যের পথে জানো কি তুমি? আমি সদা রবো দুর্জয়।
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, সাহারা- মরু কাপে থর ভীরু, রক্ত চক্ষু হেরি
ভীনদেশীদের অকাল রোদন পুলায়ন শত পথ জুড়ি,
হেরিলাম মোর বাহুডোরে বিঁধে কোটি জনতার ক্ষিদে
তামাটে বরণ করেছে ধারণ পুড়ে লেলিহান রোদে।
আয় ছুটে আয় যাত্রীরা- রণযাত্রার হেতু,
শৃঙ্খল যত গুড়িয়ে দে, দরিয়া উপরি অগ্নিসেতু।
ধ্বংস করিবো আজি সব খানে যেথা বিরাজে পরাধীনতা
দুমড়ে মুচড়ে ধূলো লুটোপুটি যাবে যতো আছে শঠতা।
ঐ দেখ,ডাকিছে অঙ্গন হুঙ্কার-মহাহুঙ্কার ছেড়ে
ডাকিছে মোরে বোশেখের সাইক্লোন হাত নেড়ে ওরে
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, বসে ভাবি নিরালয়-
এ অকুল পাথারে কত ঝঞ্ঝা -কত যে ভয়,
কত হানাহানি কত না জানি ধ্বংস-কত লয়,
করি নাকো ডর হেরি এ মহাঝড়,
ধ্বংস করিবো সকল অসৎ হানিবো প্রকট প্রহার।
এসো সব রণভূমে এসো রণবীর,
তোমার হস্তে বিজয় কেতন উড়িবে উন্নত করে শির।
ভয় কেন! হে রণবীর, হেরিয়া রণ উত্তাল ভূম!
তোমারী তরোবার করিবে বিনাশ-সব অসুরের যম।
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, আমি নির্ঘুম কতশত যে নিশি-রাত্রির
আমি চলিয়াছি রণপানে, জানি না ফিরিবো কি কোনোক্ষণে;
আমি রণযাত্রী, আমি যাত্রা করিয়াছি কতকাল থেকে-
কতকাল পথ ধরে এ ধরিত্রীর।
আমি রণযাত্রী, আমি নির্ঘুম পথ চলি এ মহাধরিত্রীর।
শতসংকট তেড়েতেড়ে আসে মুখপানে বিপথের, আহবানে
বিকট প্রহার হানিয়া সারণি চলিয়াছি রণপানে।
বোশেখের কাল বৈশাখি-টর্নেডোকে নিয়েছি যে মুঠে পুরি
প্রকট প্রলয়ে ধ্বংসের তোড়ে কাপিবে রণভূম জুড়ি।
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, আমি টর্নেডোর মহাহুঙ্কার গর্জন বাত,
করিবো ধরনী ধ্বংস আলয় করিয়া ধূলিসাৎ!
আমি টর্নেডো মহাহুঙ্কার কাল বোশেখর বাত;
হিমালয়ের পিঠে চড়ি হিমহিম কাঁপুনির কঠোর শক্তি টানি
ধমনী-শিরা হিম হয়ে আসে মৃত্যুর স্বাদ খুব আনি।
আমি টর্নেডো মহাহুঙ্কার কালবোশেখের পরমাদ,
ধ্বংস হানিয়া সব শৃঙ্খল করিবো ধূলিসাৎ।
আমি খালিদের পেশী-মহাবীর রুপ ধরি,
প্রলয় ঘটিয়া শান্তির বাত-শান্ত জীবনতরী।
টালমাটাল সদা বিরাজমান,নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, আলোর মশালে আলোকিত করি এ সারণি,
এসো রণবীর এ আলো ধরি আলোকিত করি ধরনী।
এসো রণবীর, নেমে এসো এ সারণিতে,
নেমে এসো ভাই, পাপাচার এ ধরনী ধূতে।
আমরা করিবো দুর যত অনাচার-হানিয়া মুষ্টি হাতে,
পঙ্কিলের রাজ্য ধূলো মিশে দেবো করিয়া কুঠারাঘাতে।
এসো রণবীর, নেমে এসো এ ধরনীতে।
মহাপ্রলয়ের তরী আসিয়াছে ভীড়ি,
উঠে পড়ো তরনী উপরি করো নাতো দেরী-
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি।
আমি রণযাত্রী, তূর্য ভাষাতে মনের পাতাতে ছন্দ রচিয়া চলি,
মনের মাধুরীতে ছন্দ মিশেলে হাতেতে বৈঠা তুলি,
দূর দিগন্তে - পাড়ি দিবে তরী – বহুদূরদূর,
আসমান নেমে অথৈ স্নানে, নীল পারাবার।
উঠিয়াছে ধ্বনি, প্রলয়ের ধ্বনি, প্রস্তুত রণতরী,
এসো চলি ভাই- দূর যাত্রার -মহাপ্রলয়ের পথ ধরি।
টালমাটাল সদা বিরাজমান, নোঙ্গর রণতরী,
অসীম এ দরিয়া দিবো বেশ পাড়ি,
মহাপ্রলয়ের বেয়ে সিড়ি


০৬-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026